ত্রিশতম অধ্যায়: পুনরায় সময়-ভ্রমণ!

অসীম থেকে শুরু করে সমস্ত জগতকে征服 করা মো চেংইং 2638শব্দ 2026-03-19 09:38:31

ভোরবেলা!
এটা কোনো নিনজাদের জগতের সকাল নয়, বরং ‘অন্য এক জগতের’ এক নির্মল সকাল!
এই মুহূর্তে, সবুজ ঘাসে ঢাকা এক পাহাড়ের ঢালে, এক বড়ো আর এক ছোটো—দুজন কালো চুলের মানুষ, নরম ঘাসে পা ফেলে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে।
দূর থেকে দেখলে বোঝা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষটির কপালে বাঁধা রয়েছে এক লম্বা হেডব্যান্ড, যার সামনে যুক্ত রুপোলি ধাতব ফিতার ওপর খোদাই করা রয়েছে ‘ঘূর্ণায়মান পাতার’ চিহ্ন।
আর শিশুটির চোখে গগলস, গলায় লম্বা স্কার্ফ, যা প্রায় মাটিতে ছুঁয়ে আছে।
এই দু’জন, আর কেউ নয়—রূপ বদলের কৌশলের ছদ্মবেশ খুলে, সরাসরি তার যুবক চেহারায় উপস্থিত মক ইয়াং এবং তার পেছনে আশ্চর্য মুখে হাঁটতে থাকা তরুণ—সারুতোবি মুকোয়া মারু!
এ মুহূর্তে, বারবার জগৎ পেরিয়ে আসা মক ইয়াংের কাছে এটা নতুন কিছু নয়, কিন্তু মুকোয়া মারু বিস্ময়ে চোখ বড়ো বড়ো করে, আশেপাশে তাকিয়ে আছে, যেন কোনো গ্রামীণ বৃদ্ধা হঠাৎ রাজপ্রাসাদে ঢুকে পড়েছে।
‘‘কী লাগছে, মুকোয়া মারু?’’
হাঁটতে হাঁটতে মক ইয়াং পাশ ফিরল, মুকোয়া মারুর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল, ‘‘প্রথমবার ভিন জগতে এসে তোমার কেমন লাগছে?’’
‘‘অসাধারণ!’’
শিশুরা যেমন, খুব গভীর কথা বলতে পারে না, কিন্তু তার সহজ-সরল স্বভাব বিবেচনায় নিয়ে শুধুমাত্র ‘অসাধারণ’ শব্দটাই তার মনের বিস্ময় প্রকাশে যথেষ্ট।
তাই—
‘‘দারুণ!’’
মক ইয়াং সন্তুষ্টচিত্তে মাথা ঝাঁকাল এবং সতর্ক করল, ‘‘অজানা স্থানে এসেও তুমি বিচলিত হওনি, এই সাহসটাই প্রশংসনীয়… তবে, এই সফরের আসল উদ্দেশ্য কিন্তু ভুলে যেও না!’’
‘‘হ্যাঁ!’’
মক ইয়াংয়ের কথায় মুকোয়া মারু গম্ভীরভাবে মাথা নাড়ল, ‘‘বুঝেছি, দাদু!
আমি এই সুযোগ একদম নষ্ট করব না, নিজের দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্যই প্রশস্ত করব।’’
ঠিকই তো!
মক ইয়াং মুকোয়া মারুকে নিয়ে এই ভিন জগতের সফরে বেরিয়েছে মূলত ছেলেটির দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াতে।
কারণ, যখন থেকে মক ইয়াং তৃতীয় হোকাগে হয়ে জন্মাল, তখন থেকেই সে বুঝেছে—কেবল মুকোয়া পাতার গ্রাম নয়, বরং গোটা নিনজাদের জগতের সবার দৃষ্টিই অত্যন্ত সংকীর্ণ।
শুধু ‘শিমুরা দানজো’কে নয়, যে ‘পাতার জন্য’ বলে মুখে মুখে স্লোগান তোলে, অথচ আসলে হোকাগে হওয়ার লালসায় ছটফট করে; এমনকি উচিহা মাদারা-র মতো শক্তিশালী কৌশলীও বছরের পর বছর পরিকল্পনা করেও নিনজাদের জগতের গণ্ডি ছাড়াতে পারেনি, বরং অন্যদের হাতে পুতুল হয়ে গেছে।
এর তুলনায়, মক ইয়াং তার আগের জীবনে স্রেফ এক সাধারণ মানুষ হলেও, সে তো এক ভ্রমণকারী, উপরন্তু আরাড গিয়ারের সর্বোচ্চ অধিকারী হওয়ার পর, বহু জগত, বহু মাত্রা পেরোনোর শক্তি তার হাতে।
সোজা কথায়, শুধু দৃষ্টিভঙ্গির দিকেই তার আর নিনজাদের জগতের মানুষের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।
এমনকি নক্ষত্রপুঞ্জের মধ্যে ঘুরে বেড়ানো ওতসুৎসুকি গোত্রও তার ধারেকাছে আসে না!
এই কারণেই, এখন যখন সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সারুতোবি হিরুজেনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে মুকোয়া মারুকে গড়ে তুলবে, তার প্রথম কাজ হচ্ছে ছেলেটির দৃষ্টিভঙ্গি ছোটবেলা থেকেই ক্রমাগত বিস্তৃত করা।
‘‘শুধু ছোট্ট মুকোয়া পাতার গ্রাম নয়, নিনজাদের জগতও আসলে কিছুই না; এ কেবল একটি বিশেষ ধরনের গ্রহ মাত্র! এর বাইরে যে অসংখ্য নক্ষত্র, মহাকাশ, অসংখ্য জগত—সেটাই তোমার ভবিষ্যতের আসল মঞ্চ।’’
হ্যাঁ, কথাটা শুনতে হয়তো কিছুটা অতিকথন,
তবু, অর্থে কিন্তু ভুল নেই। মক ইয়াং ভবিষ্যতে নিজেকে বিপদে না ফেললে, সবটাই ‘আগাম স্বপ্ন’ হিসেবেই থাকবে।
তারপর—

এই ভাবনাকে সামনে রেখে, দু’জনের এই ভিন জগত সফরের প্রথম গন্তব্য—সামনের খুব কাছেকার মাথা-নোয়া টুপি আকৃতির এক গোলাকৃতি বাড়ি।
এটি এক বিশেষ ইতিহাস ও বিশাল পটভূমির ছোট্ট দোকান।
এর নাম—বোয়ার হ্যাট
বঙ্গানুবাদ—শূকর টুপি সরাই!

‘‘বড়ো মগে পাঁচ জার বিয়ার, অপেক্ষা করিয়েছি, দুঃখিত!’’
‘‘আর আসন আছে?’’
‘‘ভেতরে আসুন, একটু কষ্ট করে ঠাসাঠাসি করতে হবে!’’
‘‘এই দোকানের কর্মচারীটা ছোটো হলেও বেশ চটপটে মনে হচ্ছে।’’
‘‘ও কর্মচারী নয়, আমি-ই মালিক, এটাই আমার দোকান!’’
শূকর টুপি সরাই-এর ভেতর, সোনালি চুল আর নীল চোখের এক ছোট্ট ছেলেটি, দেখতে সাত-আট বছরের মতো, বার কাউন্টার আর কয়েকটি গোল কাঠের টেবিলের মাঝে দৌড়ে বেড়াচ্ছে।
সে অনবরত ব্যস্ত থাকলেও মুখে দারুণ শান্ত ভাব, ক্রেতার ভিড় বাড়লেও একটুও বিচলিত নয়।
এ সময়—
‘‘টুন টুন!’’
দোকানের কাঠের দরজা খুলতেই কোণে ঝোলানো ঘণ্টি বেজে ওঠে, সোনালি চুলের ‘ছেলেটি’ স্বভাবতই ঘুরে তাকায়, ‘‘স্বাগতম!’’
‘‘ওহে, নমস্কার!’’
দৃশ্যপটে দেখা যায়, একজন লম্বা ও একজন খাটো; লম্বাটি দেখতে বিশ বছরের মতো, অন্যজন সোনালি চুলের ছেলেটির সমবয়সী।
উত্তর দেয় লম্বা কালো চুলের যুবক।
‘‘দু’জন, দুঃখিত, দোকানভর্তি—আর আসন নেই!’’
সোনালি চুলের ‘ছেলেটি’ হাতে এক টুকরো মিট পাই নিয়ে অন্য টেবিলে পরিবেশন করতে করতে বলল, ‘‘খেতে চাইলে একটু অপেক্ষা করতে হবে।’’
‘‘সমস্যা নেই, আমি কাউন্টারে বসব।’’
লম্বা যুবক হেসে বলল, ‘‘আমার জন্য এক মগ বিয়ার, ওর জন্য কিছু নয়, ওর বয়স এখনও কম।’’
‘‘ঠিক আছে, একটু অপেক্ষা করুন!’’
বলেই ছেলেটি আবার কাজে লেগে পড়ল।
বেশি সময় যায় না—
‘‘গ্রাহক, আপনার বিয়ার!’’
‘‘ধন্যবাদ!’’
কালো চুলের যুবক কাউন্টারের পাশে বসে, তার সঙ্গে থাকা শিশুটি তার পাশের আরেকটা গোল কাঠের চেয়ারে।
এ সময়—
‘‘দাদু, তুমি তো বলেছিলে অনুশীলন করব?’’

শিশুটি খানিকটা বিদ্রুপের চোখে বলল, ‘‘তাহলে এখানে এসে কেন বিয়ার খাচ্ছ?’’
‘‘হা হা, এটা তো মাত্র রাতের খাবার শেষ করলাম, মুকোয়া মারু, তুমি আবার কি ক্ষুধার্ত?’’
ঠিকই,
এই দু’জন মক ইয়াং আর মুকোয়া মারু ছাড়া আর কেউ নয়।
এ মুহূর্তে—
‘‘এই দোকানে শুধু মদ আর খানাপিনা মেলে, মদ তোমার বয়স হয়নি, খেতে পারবে না। আর খাবার…’’
মক ইয়াং পাশের দিকে দেখাল, ‘‘দেখো!’’
‘‘এটা তো একেবারে বাজে!’’
দেখা গেল, ঠিক তখনই সোনালি চুলের ছেলেটি যে মিট পাই এনে দিয়েছিল, সেটি মুখে দিয়ে খাওয়া মাত্রই এক গ্রাহক বমি করে ফেলল।
সঙ্গে সঙ্গে—
‘‘আসলেই তো, সবাই বলে আমার দোকানের মদই শুধু ভালো, খাবার একেবারে দুর্বিষহ।’’
দোকানের মালিক সোনালি চুলের ছেলেটি যেন কিছুই না হয়েছে, দুই হাতে কোমর চেপে, নির্বিকার মুখে মন্তব্য করল।
এতে তার স্বাভাবিক ঠাট্টার ছাপ স্পষ্ট।
দৃশ্য দেখে—
‘‘এত বড়ো কথা আগে বলতে পারতে না!’’
‘‘তুই কি আমাদের নিয়ে মজা করছিস?’’
‘‘ধুর!’’
ওই টেবিলের গ্রাহকরা সরাসরি টেবিল উল্টে দেয়, আর পাশের লোকেরা সবাই হাসি ঠাট্টায় মেতে ওঠে।
মক ইয়াং-ও ব্যতিক্রম নয়।
মুকোয়া মারুর প্রতিক্রিয়া—
‘‘আসলে আমার খিদে নেই… না, আমি তো বলিইনি, আমার খিদে পেয়েছে!’’
সে উত্তেজিত হয়ে মক ইয়াংকে বলল, ‘‘বলেছিলে তো অনুশীলন হবে? বলেছিলে তো দৃষ্টিভঙ্গি খুলে যাবে?
শেষ পর্যন্ত তো এখানে এসে শুধু মদ খাচ্ছ!’
শুনে—
‘‘এত অধৈর্য হবে না, মুকোয়া মারু!’’
মক ইয়াং তখনও শান্ত, আগের জীবনেও যেমন সুরা পছন্দ করত না, বিয়ারেই তার আসল আসক্তি।
এবার সে মগভর্তি বিয়ার ঢকঢক করে গিলে, তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলে, চোখ আধবোজা করে, মুকোয়া মারুর মাথায় হাত বুলিয়ে মৃদু হাসি দিয়ে বলল, ‘‘শোনো… এই দুনিয়ায় কিছু জিনিস রয়েছে, যা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলেই দেখা যায়!
আর ঠিক এরপরই যা ঘটবে, তার জন্য অপেক্ষা করাই সঠিক হবে!’’